ফোন কেনার সময় যেসব স্পেক সত্যিই জরুরি

স্পেক শিট লম্বা, আর বেশিরভাগ সংখ্যাই বিজ্ঞাপন। এক বছর পরও ফোন কেমন লাগবে সেটা ঠিক করে হাতে গোনা কয়েকটা স্পেক।

গাঢ় লাল গ্রেডিয়েন্টের ওপর দুটি ফোনের রেখাচিত্র

ফোনের স্পেক শিটে ডজনখানেক লাইন থাকে। এক বছর পর ফোন কেমন লাগবে সেটা ঠিক করে হাতে গোনা কয়েকটা, বাকিটা বিজ্ঞাপন। এই গাইড কোনো ফোনকে র‍্যাঙ্ক করে না বা দাম লেখে না, কারণ দাম ঘন ঘন বদলায়। যেকোনো স্পেক শিট পড়তে এটা কাজে লাগান।

যে ছয়টা স্পেক জরুরি

  1. সফটওয়্যার আপডেট। প্রস্তুতকারক কত বছর সিকিউরিটি আপডেট দেওয়ার কথা দিয়েছে, জিজ্ঞেস করুন। কম আপডেটের ফোন দ্রুত অনিরাপদ ও ধীর হয়।
  2. প্রসেসরের ধাপ। একই দামের ফোনগুলো বিজ্ঞাপনের বেঞ্চমার্ক সংখ্যা দিয়ে নয়, প্রসেসরের ধাপ ও আসল ব্যবহারের রিভিউ দিয়ে তুলনা করুন।
  3. মেমোরি ও স্টোরেজ। বেশিরভাগ মানুষের জন্য ৬ থেকে ৮ GB RAM আরামদায়ক। ছবি-ভিডিও তুললে ১২৮ GB ব্যবহারিক সর্বনিম্ন, আর মেমোরি কার্ড চলে কি না দেখে নিন।
  4. ব্যাটারি ও চার্জিং। আসল স্ক্রিন-অন ঘণ্টার জন্য রিভিউ পড়ুন। বাক্সে চার্জার আছে কি না দেখুন, কারণ কিছু ব্র্যান্ড আর চার্জার দেয় না।
  5. ডিসপ্লে। খুব বেশি রেজোলিউশনের সংখ্যার চেয়ে রোদে ব্রাইটনেস আর মসৃণ রিফ্রেশ রেট বেশি কাজের।
  6. নেটওয়ার্ক সাপোর্ট। বাংলাদেশে আপনার অপারেটরদের ৪জি ব্যান্ড ফোনটা সাপোর্ট করে কি না নিশ্চিত হন। ব্যান্ড কম থাকা ইমপোর্টে ঘরের ভেতরে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে।

যে তিনটা দেখতে যতটা জরুরি মনে হয় ততটা নয়

  • মেগাপিক্সেল সংখ্যা। ২০০ MP সেন্সর মানেই ভালো ছবি নয়। লেন্স, সেন্সরের সাইজ ও ইমেজ প্রসেসিং বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্যাম্পল ছবি ও রিভিউ দেখুন।
  • বেঞ্চমার্ক স্কোর। প্রতিদিনের গতি নির্ভর করে সফটওয়্যার ও কুলিংয়ের ওপর, একটা স্কোরের ওপর নয়।
  • পাতলা ডিজাইন ও রঙের নাম। কেস দিলে দুটোই ঢেকে যায়।

কেনার দিকটা যাচাই করুন

  • অফিসিয়াল না ইমপোর্ট: অফিসিয়াল ভ্যারিয়েন্টে লোকাল ওয়ারেন্টি থাকে। গ্রে-মার্কেট ইমপোর্টে নাও থাকতে পারে।
  • ওয়ারেন্টি কার্ড ও ইনভয়েস: দুটোই রাখুন, আর বাক্স থেকে IMEI লিখে রাখুন।
  • বাক্স যাচাই: বাক্সের IMEI, সেটিংসের IMEI (ডায়াল করুন *#06#) আর ইনভয়েসের IMEI মিলতে হবে।
  • দাম: বিক্রেতার দাম ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল পেজের সঙ্গে মেলান এবং যাচাইয়ের তারিখ লিখে রাখুন।

সাধারণ ভুল

  • সবচেয়ে বড় ক্যামেরা সংখ্যার ফোন বেছে নেওয়া।
  • কম স্টোরেজের ফোন কিনে কয়েক মাসেই ভরে ফেলা।
  • ব্যবহৃত বা ইমপোর্ট করা ফোনে IMEI যাচাই বাদ দেওয়া।

মূল কথা

আপডেটের প্রতিশ্রুতি, প্রসেসরের ধাপ, মেমোরি ও স্টোরেজ, ব্যাটারি, ডিসপ্লে আর নেটওয়ার্ক ব্যান্ড দেখুন। মেগাপিক্সেল ও বেঞ্চমার্কের শিরোনাম উপেক্ষা করুন, আর ওয়ারেন্টি দেয় এমন বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন।

আরও পড়ুন

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে ফোনের স্টোরেজ খালি করার উপায়

"স্টোরেজ ফুল" দেখালে সাধারণত কয়েকটা বড় ফাইলই দায়ী থাকে। সেগুলো খুঁজে বের করে দরকারি কিছু না হারিয়ে জায়গা খালি করার নিয়ম এখানে।

গাইড•২ মিনিটে পড়া

বাজেট অনুযায়ী ল্যাপটপ বাছাইয়ের গাইড (বাংলাদেশ)

ব্র্যান্ড দিয়ে শুরু করবেন না। আগে ঠিক করুন ল্যাপটপে কী করবেন, তারপর পাঁচটা স্পেক ও কেনার কিছু অভ্যাস দেখুন, এতে টাকা বাঁচবে।

কেনার গাইড•২ মিনিটে পড়া

ইন্টারনেট স্পিড টেস্ট ও ধীর ওয়াই-ফাই ঠিক করার উপায়

প্রোভাইডারকে দোষ দেওয়ার আগে একটা ঠিকঠাক টেস্ট চালান। ফলাফল কীভাবে পড়বেন আর ফোন করার আগে কী চেষ্টা করবেন, এখানে আছে।

গাইড•২ মিনিটে পড়া