বাজেট অনুযায়ী ল্যাপটপ বাছাইয়ের গাইড (বাংলাদেশ)

ব্র্যান্ড দিয়ে শুরু করবেন না। আগে ঠিক করুন ল্যাপটপে কী করবেন, তারপর পাঁচটা স্পেক ও কেনার কিছু অভ্যাস দেখুন, এতে টাকা বাঁচবে।

গাঢ় লাল গ্রেডিয়েন্টের ওপর একটি ল্যাপটপের রেখাচিত্র

বেশিরভাগ মানুষ ব্র্যান্ড দেখে বা বাক্সের সবচেয়ে বড় সংখ্যা দেখে ল্যাপটপ কেনে। ভালো উপায় হলো আগে ঠিক করা ল্যাপটপটা দিয়ে কী করবেন, তারপর ছোট একটা স্পেক তালিকা মিলিয়ে দেখা। দাম ঘন ঘন বদলায় বলে এই গাইডে দাম লেখা হয়নি, আজকের দাম বিক্রেতার পেজে দেখে নিন।

ধাপ ১: মূল ব্যবহার ঠিক করুন

ব্যবহার কোনটা সবচেয়ে জরুরি
ক্লাস, ডকুমেন্ট, ব্রাউজিং ব্যাটারি, ওজন, স্ক্রিন, সলিড-স্টেট ড্রাইভ
প্রোগ্রামিং, ডিজাইন, হালকা ভিডিও এডিটিং বেশি মেমোরি, দ্রুত প্রসেসর, ভালো স্ক্রিন
গেমিং বা ভারী ৩ডি কাজ আলাদা গ্রাফিক্স কার্ড, কুলিং, বড় বাজেট

আপনার ব্যবহার প্রথম সারিতে পড়লে গেমিং ল্যাপটপের জন্য বাড়তি টাকা দেবেন না।

ধাপ ২: যে পাঁচটা স্পেক জরুরি

  1. স্টোরেজের ধরন: SSD (সলিড-স্টেট ড্রাইভ) নিন। শুধু হার্ড ডিস্ক (HDD) থাকলে ভালো প্রসেসরেও ল্যাপটপ ধীর লাগে।
  2. মেমোরি (RAM): আজকের দিনে ৮ GB যুক্তিসংগত সর্বনিম্ন। প্রোগ্রামিং, ডিজাইন বা অনেক ব্রাউজার ট্যাবের জন্য ১৬ GB নিন। পরে মেমোরি বাড়ানো যায় কি না দেখে নিন।
  3. প্রসেসর: একই ব্র্যান্ডের মধ্যে জেনারেশন ও মডেল নম্বর দেখে তুলনা করুন, শুধু "i5" বা "Ryzen 5" দেখে নয়। নিচের ধাপের নতুন জেনারেশন প্রায়ই ওপরের ধাপের পুরোনো জেনারেশনের চেয়ে ভালো চলে।
  4. স্ক্রিন: ফুল এইচডি (১৯২০ x ১০৮০) বা তার ভালো দেখুন। কম আলো ও কম রেজোলিউশনের প্যানেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করা ক্লান্তিকর।
  5. ব্যাটারি ও ওজন: প্রস্তুতকারকের দাবি নয়, স্বাধীন রিভিউ থেকে আসল ব্যাটারি ঘণ্টা দেখুন।

ধাপ ৩: যেসবের জন্য বাড়তি টাকা নয়

  • ধীর হার্ড ডিস্কে বড় স্টোরেজ সংখ্যা।
  • গেম না খেললে RGB আলো ও "গেমিং" ডিজাইন।
  • যে টাচস্ক্রিন ব্যবহার করবেন না।

ধাপ ৪: কোথায় ও কীভাবে কিনবেন

  • অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি দেয় এমন অনুমোদিত বিক্রেতা বেছে নিন। কে এবং কোথায় সার্ভিস দেবে জিজ্ঞেস করুন।
  • মডেলটা অফিসিয়াল লোকাল ভ্যারিয়েন্ট, না লোকাল ওয়ারেন্টিবিহীন ইমপোর্ট, জেনে নিন।
  • ইনভয়েস, বাক্স ও সিরিয়াল নম্বর রেখে দিন।

ধাপ ৫: কেনার দিনই পরীক্ষা করুন

  • দোকানেই চালু করুন। সাদা ও কালো স্ক্রিনে ডেড পিক্সেল খুঁজুন।
  • প্রতিটা কী, টাচপ্যাড, স্পিকার, ওয়েবক্যাম, পোর্ট ও চার্জার পরীক্ষা করুন।
  • স্টোরেজ ও মেমোরির স্ক্রিন খুলে বাক্সের সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
  • ল্যাপটপ ব্যবহৃত বা রিফারবিশড হলে ব্যাটারি হেলথ ও সাইকেল কাউন্ট দেখুন।

সাধারণ ভুল

  • শুধু প্রসেসরের নাম দেখে কেনা।
  • ব্যাটারি না দেখে ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনা।
  • সামান্য টাকা বাঁচাতে ওয়ারেন্টি কার্ড না নেওয়া।

মূল কথা

ব্যবহার ঠিক করুন, SSD আর যথেষ্ট মেমোরি নিশ্চিত করুন, স্বাধীন রিভিউ দিয়ে স্ক্রিন ও ব্যাটারি যাচাই করুন, আর ওয়ারেন্টি দেয় এমন বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন। ব্র্যান্ড বাছাইয়ের চেয়ে এই ক্রমে বেশি টাকা বাঁচে।

আরও পড়ুন

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে ফোনের স্টোরেজ খালি করার উপায়

"স্টোরেজ ফুল" দেখালে সাধারণত কয়েকটা বড় ফাইলই দায়ী থাকে। সেগুলো খুঁজে বের করে দরকারি কিছু না হারিয়ে জায়গা খালি করার নিয়ম এখানে।

গাইড•২ মিনিটে পড়া

ইন্টারনেট স্পিড টেস্ট ও ধীর ওয়াই-ফাই ঠিক করার উপায়

প্রোভাইডারকে দোষ দেওয়ার আগে একটা ঠিকঠাক টেস্ট চালান। ফলাফল কীভাবে পড়বেন আর ফোন করার আগে কী চেষ্টা করবেন, এখানে আছে।

গাইড•২ মিনিটে পড়া

ফোন কেনার সময় যেসব স্পেক সত্যিই জরুরি

স্পেক শিট লম্বা, আর বেশিরভাগ সংখ্যাই বিজ্ঞাপন। এক বছর পরও ফোন কেমন লাগবে সেটা ঠিক করে হাতে গোনা কয়েকটা স্পেক।

কেনার গাইড•২ মিনিটে পড়া